ঢাকাMonday , 5 October 2026
  1. HSC
  2. HSC ফলাফল
  3. News
  4. SSC
  5. SSC ফলাফল
  6. উচ্চশিক্ষা
  7. উপবৃত্তি
  8. কলেজ
  9. কলেজ ভর্তি
  10. কারিগরি প্রতিষ্ঠান
  11. কারিগরি ভর্তি
  12. কারিগরি শিক্ষা
  13. ক্যাম্পাস সংবাদ
  14. ক্যারিয়ার
  15. ক্যারিয়ার গাইড
আজকের সর্বশেষ সবখবর

অভিযোগ কার বিরুদ্ধে, বদলি হলেন কে? ঘুষ.সাইট বিতর্কে যে প্রশ্নটি জরুরি

Link Copied!




ময়মনসিংহে ‘ঘুষ.সাইট’ নিয়ে আলোচনার মধ্যে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনিকা পারভীনের বদলি নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তার কেন্দ্রে রয়েছে একটি মৌলিক প্রশ্ন! ঘুষের অভিযোগটি আসলে কার বিরুদ্ধে?

১৭ বছর বয়সী শহীদ শরীফ আহমেদ তাঁর প্রয়াত মায়ের সরকারি পাওনা অর্থ পেতে ঘুষ দাবির অভিযোগ করেছিলেন। অভিযোগের পর ময়মনসিংহ সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের দুই কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। তাঁদের একজন এ এইচ এম নাদিরুল হাসান সবুজ, অন্যজন মো. মুজিবুর রহমান। কিন্তু ওই অভিযোগের অভিযুক্ত কেউ মনিকা পারভীন নন।এখানেই সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে একটি সূক্ষ্ম পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কোনো কর্মকর্তার অধীনস্থ কার্যালয়ের কর্মচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠা এবং ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠা দুটি এক বিষয় নয়।

মনিকা পারভীনের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়া বা ঘুষ দাবি করার অভিযোগের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বরং তাঁর কার্যালয়ের দুই কর্মচারীকে শোকজ করার প্রশাসনিক উদ্যোগ তাঁর দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবেই দেখা যেতে পারে।

এরপর ৯ সেপ্টেম্বর মনিকা পারভীনকে ময়মনসিংহ সদর থেকে নান্দাইলে বদলি করা হয়। বদলির আদেশে কারণ হিসেবে ‘জনস্বার্থ’ উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনাগুলোর সময়কাল অবশ্যই প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। কিন্তু সময়ের নৈকট্যকে কারণগত সম্পর্ক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হলে আরও তথ্য প্রয়োজন। প্রশাসনিক নথিতে যদি বদলির অন্য কোনো কারণ থাকে, সেটিও জানা দরকার। আর যদি ঘুষের অভিযোগের সঙ্গে বদলির কোনো সম্পর্ক না থাকে, সেটিও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

প্রথম আলোর প্রতিবেদনে প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের পক্ষ থেকে বদলিকে নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একই প্রতিবেদনে জানা যায়, মনিকা পারভীন ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে ময়মনসিংহ সদরে যোগ দিয়েছিলেন।
অর্থাৎ তাঁর বদলির ক্ষেত্রে চাকরির মেয়াদ, প্রশাসনিক প্রয়োজন, পদায়নের ভারসাম্য বা অন্য কোনো নীতিগত বিষয় বিবেচনায় ছিল কি না সেটিও আলোচনার অংশ হওয়া উচিত।

এর বাইরে রয়েছে তাঁর পারিবারিক আবেদন। মনিকা ১০ সেপ্টেম্বর বদলি স্থগিতের আবেদন করে জানিয়েছেন, তাঁর একমাত্র মেয়ে ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী। মেয়ে ময়মনসিংহে পড়াশোনা করছে। তাঁর স্বামীও ময়মনসিংহ বিভাগীয় পর্যায়ে সরকারি দায়িত্বে রয়েছেন।
ময়মনসিংহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদও তাঁর বদলি বাতিলের অনুরোধ জানিয়েছেন। তাই পুরো ঘটনাটিকে কেবল ‘ঘুষের অভিযোগের পর কর্মকর্তার বদলি’ হিসেবে উপস্থাপন করলে ঘটনাপ্রবাহের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ বাদ পড়ে যায়। বরং এখানে রয়েছে একটি ঘুষের অভিযোগ, দুই কর্মচারীর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা, একটি নিয়মিত বা কথিত নিয়মিত বদলি, এবং একজন কর্মকর্তার পারিবারিক কারণে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আবেদন।

সংবাদমাধ্যমের দায়িত্ব হলো এই চারটি ঘটনাকে আলাদা রেখেই পাঠকের সামনে পুরো চিত্রটি তুলে ধরা। কারণ অভিযোগের সঙ্গে নাম জড়িয়ে যাওয়া এবং অভিযোগের ব্যক্তি হওয়া এক কথা নয়।