সরকারি স্কুলে ভর্তির ক্ষেত্রে প্রচলিত লটারি পদ্ধতির পরিবর্তে মেধাভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষা পুনরায় চালুর দাবিতে ময়মনসিংহে মানববন্ধন করেছেন অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর ফিরোজ-জাহাঙ্গীর চত্বরে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে কয়েকশ অভিভাবক ও শিক্ষার্থী অংশ নেন।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া অভিভাবকেরা বলেন, দীর্ঘদিন পড়াশোনা ও প্রস্তুতি নেওয়ার পরও শুধু লটারির মাধ্যমে সরকারি স্কুলে ভর্তির সুযোগ নির্ধারিত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মেধা ও পরিশ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন হচ্ছে না। তাদের দাবি, শিক্ষার্থীর যোগ্যতা ও প্রস্তুতি যাচাইয়ের জন্য স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক ভর্তি পরীক্ষা চালু করা প্রয়োজন।
অভিভাবক খায়রুল ইসলাম বলেন, লটারি পদ্ধতির কারণে শিক্ষার্থীদের মেধা ও পরিশ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন হচ্ছে না। দীর্ঘ সময় ধরে প্রস্তুতি নেওয়ার পরও কাঙ্ক্ষিত বিদ্যালয়ে ভর্তি অনেক ক্ষেত্রে ভাগ্যের ওপর নির্ভর করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
আরেক অভিভাবক নূরন্নাহার বেগম বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা যাচাইয়ের পরিবর্তে শুধু ভাগ্যের ওপর ভর্তি নির্ভর করা উচিত নয়। শিক্ষা ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অভিভাবক, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের মতামত নেওয়ারও দাবি জানান তিনি।
মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, লটারি পদ্ধতির কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব ও পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাদের মতে, সরকারি বিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সুযোগ নিশ্চিত করা হলে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় আরও মনোযোগী হতে উৎসাহিত হবে।
আন্দোলনকারীদের দাবি, সরকারি স্কুলে ভর্তি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, মেধার মূল্যায়ন ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে আগের মতো ভর্তি পরীক্ষা চালু করা হোক। পাশাপাশি ভর্তি পদ্ধতি পরিবর্তনের আগে অভিভাবক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
মানববন্ধন থেকে দাবি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করা হয়। দাবি বাস্তবায়ন না হলে পরবর্তী সময়ে আরও কর্মসূচি দেওয়ার কথাও জানান আন্দোলনকারীরা।
প্রেক্ষাপট
সরকারি ও বেসরকারি স্কুলে ভর্তির ক্ষেত্রে লটারি পদ্ধতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন ধরনের মতামত রয়েছে। ২০২৪ সালে সরকারি ও বেসরকারি স্কুলের ভর্তি লটারি নিয়ে শিক্ষা বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, লটারির মাধ্যমে ভর্তি হলে বৈষম্য কিছুটা কমানোর সুযোগ থাকে এবং ভর্তি পরীক্ষাকে ঘিরে কোচিংনির্ভরতার আশঙ্কাও থাকে।
অন্যদিকে, ময়মনসিংহের মানববন্ধনে অংশ নেওয়া অভিভাবকদের বক্তব্য হলো—ভর্তি প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীর মেধা ও প্রস্তুতির মূল্যায়ন থাকা প্রয়োজন। ফলে লটারি বনাম ভর্তি পরীক্ষা—দুই পদ্ধতির সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
শিখন নিউজের পাঠকদের জন্য: সরকারি স্কুলের ভর্তি পদ্ধতি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা সরকারি প্রজ্ঞাপন প্রকাশ হলে তা শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনার ভিত্তিতে অনুসরণ করা হবে।

